পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ট্রিকস ফর ফ্রিল্যান্সার্স

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ট্রিকস ফর ফ্রীলান্সার্স

● পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কি??? আমরা অনেকেই বুঝিনা। এবং বুঝতেও চাইনা। বুঝলেও করতে চাই না । কিন্তু নিজের এবং আপনার ব্যবসা এর জন্য পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ফ্রীলান্সার জন্য তো পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং হলো সবাই একনামে চিনবে। নিজেকে এমন ভাবে প্রচার করতে হবে যেনো আমার কাউকে ডাকা লাগবেনা, সবাই আমাকে খুঁজে নিবে। অর্থাৎ পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং হল মূলত নিজেকে বা নিজের ব্যক্তিত্বকে সকলের সামনে তুলে ধরা বা পরিচিতি করানো। আর অনলাইন পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং বলতে নিজেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া তে ওপেন করে দেয়া, যাতে সবাই খুঁজে নিতে পারে।

আর ফ্রীলান্সারদের জন্য তো ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস এর পাশাপাশি যদি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এক্সট্রা ক্লায়েন্ট আসে মন্দ কি? আর আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ক্লায়েন্টদের ভালো সার্ভিস দেন তারা আপনাকে লং টার্ম কাজ দিবে।

● একবারও ভেবে দেখেছেন কি, বিভিন্ন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের ভালো দিকগুলোর কথা যখন আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনি, তখনই কিন্তু আমরা পণ্যটি কিনি বা ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো সেবা/সার্ভিস টি গ্রহণ করে থাকি। সর্বোপরি ওই পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু আমাদের কাছে বাড়ে। যেমন আড়ং/ ক্যাটস-আই এর কথা ধরুন না, আপনাকে কেও একজন যদি বলে চলো, নিউ মার্কেট এর দোতলা থেকে তোমাকে একটা জিন্স কিনে দেই। .. অথবা বললো চলো ক্যাটস আই থেকে জিন্স কিনে দেই .. কোনটার ইম্প্রেশন আপনার কাছে ভালো লাগবে ? এটাই ব্র্যান্ড ভ্যালু ।

এবার পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিয়ে নিজের কথা ভাবুন তো। যদি আপনার ভালো দিকগুলো অন্যদের জানানো যায়, তাহলে অন্যদের কাছেও আপনার গ্রহণযোগ্যতা বা ব্র্যান্ডমূল্য অনেকটা বেড়ে যাবে। সবাই আপনার কাজ, আগ্রহ, সামর্থ্য ও যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে। আপনাকে কাজ দেয়ার জন্য ক্লায়েন্টরা অপেক্ষা করবে।

●● পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং যে যে সুবিধা দেয়:

——————————————

– অন্যের কাছে নিজের একটা বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করে ।

– অনলাইন প্রভাব বৃদ্ধি করে।

– আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে আপনার একটা ভ্যালু তৈরী করে।

– প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করে ।

– কাজ এবং ক্যারিয়ারকে নিরাপদ করে ।

– নতুন চাকরির/ব্যবসা এর সুযোগ তৈরি হয় ।

– আপনি যা বলতে চাবেন, তা সবাই মন দিয়ে শুনবে, কারণ আপনার কথার ভ্যালু বেড়ে যাবে।

– পরবর্তীতে আপনার প্রোডাক্ট/সার্ভিস নিয়ে আপনার ব্যবসা শুরু করা আর সাফল্য পাওয়া অনেক সহজ হবে।

✨✨ তো কিভাবে বাড়াবেন ব্র্যান্ড ভ্যালু ?

——————————————

তো শুরু করা যাক ? ….

১. গুগল এ নিজের উপস্থিতি

———————————-

যেকোনো মানুষ আপনাকে জানতে প্রথমেই গুগল করবে, তাই গুগল এর সার্চ রেজাল্ট এ আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল গুলো আসছে কিনা সেটা দেখুন। যদি না আসে আপনি সার্চ রেজাল্ট রিফাইন করার জন্য (https://brandyourself.com) ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নিজেকে গুগল এ শক্তিশালী করতে পারবেন ।

২. গুগল মাই বিসনেস (GMB)/ গুগল লিস্টিং/ফীচার – https://business.google.com

————————————————–

আমরা গুগল অনেকের নাম দিয়ে সার্চ করলে হাত এর দেন এ ফীচার অবস্থায় দেখায়। এটাই গুগল মাই বিসনেস। এখানে নিজের একটা প্রোফাইল তৈরি করুন। এতে কেও আপনাকে গুগল এ সার্চ করলে, আপনাকে গুগল ডান দিকে ফিচার্ড আকারে দেখাবে যাকে গুগল লিস্টিং বলা হয়, এইখানে আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, রিভিউ এগুলো দেখা যাবে। তাছাড়াও গুগল ম্যাপ এ আপনি নিজের নাম বা আপনার ব্র্যান্ড দিয়ে সার্চ করলে নিজের লোকেশন ম্যাপ এ সেট আপ করতে পারবেন। আপনার সার্ভিস/ প্রোডাক্ট গুলো ও এখানে শোকেস করে রাখতে পারবেন।

মজার না? এর জন্য আপনাকে কোনো সেলিব্রিটি বা বিশেষ ব্যক্তিত্ব হতে হবে না। চলে যান https://business.google.com এ, করে ফেলুন আপনার নিজের নাম এ ফীচার। আর এখন মোবাইল এ কোড অথবা ইমেইল এই সহজেই ভেরিফাই করা যায়।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (social media) পরিচ্ছন্ন উপস্থিতি

————————————————–

লিংকডইন, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, pinterest, reddit, quora.com, blogger.com, snapchat সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের অনন্য মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

যেমন ধরুন লিংকডইন পেশাজীবীদের জন্য একটি চমৎকার জায়গা। এখানে একজন ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মপ্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের বিবরণ, বিশেষ স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া থাকে। লিংকড–ইন থেকেই অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের যোগ্য কর্মী খুঁজে নেয়। তাই ভালোভাবে একটি লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করে অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হলে ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকে। আমি লিঙ্কেডিন এ প্রোফাইল করা, লিঙ্কেডিন কানেকশন, জব সার্চ ও লিঙ্কেডিন আউটরিচ নিয়ে বিস্তারিত একটি ব্লগ দিবো ইনশাল্লাহ। একইভাবে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে আপনার উপস্থিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।

৪. আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট তা নিয়ে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া তে পোস্ট করা :

————————————————–

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া গুলো তে আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট সে বিষয়ে নিয়মিত কথা বলুন / পোস্ট করুন । যেমন আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইন নিয়ে অথবা রাজনীতি নিয়ে, অথবা বর্তমান ফ্যাশন নিয়ে, অথবা ব্যবসা/ফাইন্যান্স/ব্যাঙ্কিং নিয়ে, অথবা নিদৃষ্ট কোনো সার্ভিস / প্রোডাক্ট নিয়ে এক্সপার্ট । আপনি আপনার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কয়েকটা টপিক এর উপর মনস্থির করুন আর সেই টপিক নিয়ে কথা বলা শুরু করুন।

আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনের হন তাহলে আপনার তৈরী করা কিছু প্রোডাক্ট/লোগো এর পিকচার সহ পোস্ট করুন, ব্র্যান্ড গাইডলাইন কেমন ছিল, কালার প্যালেট কেমন ছিল। ওয়েব ডেভেলপার হলে একটা ওয়েবসাইট এর পিকচার দিয়ে পোস্ট করুন, জানান সবাই কে কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করেছেন। কিভাবে করেছেন, কি কি ফীচার রয়েছে, কত দিন সময় লেগেছে।

মাঝে মাঝে কিছু ইনফোরমেটিভ ব্লগ / গল্প পোস্ট করুন। আপনি chatgpt এর সাহায্য নিতে পারেন এর জন্য। আপনি যে ইন্ডাস্ট্রি তে কাজ করেন সেখানে বা কোনো টুল এ নতুন কোনো আপডেট আসলে তা নিয়ে লিখুন। যেমন ওয়েব ডেভেলপার হলে ওয়ার্ডপ্রেস এর নতুন কি কি আপডেট এসেছে, এলিমেন্টর কিভাবে ai ইনক্লুড করছে ইত্যাদি। এতে মানুষ জানবে আপনি নিজেকে সবসসময় টেকনোলজি এর সাথে আপডেট রাখেন। এতে ক্লায়েন্ট দের আপনার উপর ট্রাস্ট তৈরী হবে।

২০১৫ এর ঘটনা, একদিন আমাকে একটা বায়ার ফাইভার এ ইনবক্স করে। সব নিয়ে ডিসকাশন করে। বাজেট, টাইমলাইন সব ফাইনাল হওয়ার পর ক্লায়েন্ট বলে আমাকে একটু সময় দাও। ১০-১৫ মিনিট পর ফিরে এসে বললো “আমি তোমাকে নিশ্চিন্তে হায়ার করতে পারি।” আমি অবাক হয়ে বললাম “কি দেখে তোমার মনে হলো?” তখন ক্লায়েন্ট বললো আমি তোমার নাম দিয়ে গুগল এ সার্চ করে তোমার কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ঘুরে আসলাম। তোমার গুগল রিভিউ ও আর্টিকেল গুলো দেখলাম। তোমার যথেষ্ট এফিসিয়েন্সি রয়েছে।”

বুঝতেই পারছেন সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসেন্স এর মাধ্যমে আপনার প্রতি ক্লায়েন্ট এর আকর্ষণ বাড়বে এবং একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হবে। পরে আপনার এই ফলোয়ার দের কাছেই আপনার যেকোনো প্রোডাক্ট / সার্ভিস সহজেই সেল করতে পারবেন, কারণ তারা আপনাকে বিশ্বাস করে।

৫. মানসম্মত এবং বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মানানসই ব্লগ/কনটেন্ট লিখুন:

————————————————–

লিংকড-ইন আর্টিকেল, facebook পেইজে, ইনস্টাগ্রাম/মিডিয়াম এ কেমন করে লেখা লেখি শুরু করব? কি বিষয় নিয়ে লিখব? বাংলা না ইংরেজি লিখব?

লিখতে গিয়ে ভূল বসত বা চর্চা না থাকার কারনে এক গাদা ভূল হলেও লিখে ফেলুন। এক মাস পরে দেখবেন মানুষের ফিডব্যাক নিয়ে এবং কথা শুনে ৭০% শুধরে নিয়েছেন। বাকি ৩০% নিজেই লেখার মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। অনেকে মনে করেন লিখলে যদি ভুল হয়! ভূল হবে, শিখবেন অনেক তবুও প্রচেষ্টা থাকবে সারাদিন কিছু না কিছু লেখার। বাংলা কিংবা ইংরেজি যে কোন ভাষায়।

আমি কিন্তু কোথাও থেকে কপি করে কনটেন্ট বানাতে বলছে না । এই কাজ তা অবশ্যই করা যাবে না। কারণ আপনাকে সব সময় ট্রান্সপারেন্ট থাকতে হবে । সবই মস্তিষ্কের প্রডাকশন। শুধু একটু চিন্তা করলেই অনেক বিষয়ে লিখতে পারবেন।

একটা গল্প বলি, আপনি আজ নতুন এই ইন্ডাস্ট্রি তে। আপনি কোথাও থেকে কপি করে একটি লিখা/ ব্লগ নিজের বলে চালিয়ে দিলেন। আজকে হয়তো অনেক মানুষ চিনে না আপনাকে। ৫ বছর পর হয়তো আপনাকে সবাই চিনবে, অনেকেই আপনাকে ফলো করবে। তখন পুরানো পোস্ট গুলো ঘাটতে গিয়ে কেও যদি আগের পোস্ট টা দেখে, আপনাকে নিয়ে কটূক্তি করতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করবে না। তাই সব সময় ট্রান্সপারেন্ট থাকবেন। কারো কনটেন্ট ভালো লাগলে শেয়ার দিবেন বা পোস্ট করে নিচে ক্রেডিট দিয়ে দিবেন।

আর আজ থেকেই অল্প কিছু হলেও লিখা শুরু করেন আপনি যা জানেন তা নিয়ে। আস্তে আস্তে লিখা মানসম্মত পর্যায়ে চলে যাবে। আমি নিজেও যখন নিজের ৫-৮ বছর আগের কোনো পোস্ট দেখি, লিখা দেখে আমি নিজেই হাসি। বাংলা ইংলিশ মিলে যাচ্ছেতাই অবস্থা ছিল।

৬. নিয়মিত অডিও/ভিডিও পডকাস্ট তৈরি করা : শর্ট ভিডিও / রীল

————————————————–

বাইরের দেশ গুলো তে সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার রা, শুধু যে ব্লগ লিখেন তা নয় । তারা বিভিন্ন অডিও পডকাস্ট তৈরি করে, ইউটুব এ ভিডিও তৈরি করে। আপনার ব্লগ এর কথা গুলো কে শুধু একটু সাজিয়ে নিয়ে ক্যামেরা এর সামনে বলে গুছিয়ে বললে – সুন্দর ভিডিও পডকাস্ট তৈরি হয়ে যায়, যা আপনি আপনার ইউটুব চ্যানেল অথবা ফেইসবুক এ ভিডিও আকারে আপলোড করে দিতে পারবেন। ভিডিও এর REACH লিখা থেকে ২০০ গুন বেশি হয়, এটা প্রমাণিত সত্য। আর ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটুব এখন শর্ট ভিডিও বা রীল প্রচুর প্রোমোট করছে। প্রোফাইল গ্রো করার জন্য শর্ট ভিডিও আপনার জন্য চমৎকার একটা অপুর্চুনিটি এখন।

এছাড়াও ফেইসবুক এ লাইভ/ পডকাস্ট করতে পারেন। নিজে লাইভ এ আপনার জানা কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন, বা আরো ২-৩ জন কে ইনভাইট করে ডিসকাশন টাইপ পডকাস্ট করতে পারেন। যেমন আপনি একজন ফেইসবুক এডস এক্সপার্ট। ফেইসবুক এর এডস এ নতুন কিছু আপডেট আসলো – তা নিয়ে আপনি ডিসকাস করলেন।

৭. ফেইসবুক, লিঙ্কেডিন, reddit, quora.com সহ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ ডিসকাশন এবং অন্যদের সাহায্য করা :

————————————————–

ফেইসবুক, লিঙ্কেডিন, reddit, quora.com, সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হয়ে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকে। আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট সেই বিষয়ের গ্রুপ এ জয়েন হয়ে, নিজে পোস্ট করে ডিসকাস করতে পারেন, আবার অন্যের করা পোস্ট এ কমেন্ট এ যারা বিভিন্ন প্রব্লেম নিয়ে আছে তাদের সাজেশন দিতে পারেন। তবে অবস্যই গ্রুপ এর নিয়ম গুলো অবস্যই জেনে নিবেন।

reddit ও quora.com এ আমরা সাধারণত একটিভ থাকি না। এই ২ টি প্লাটফর্ম এ রেজাল্ট আসতে সময় লাগলেও, আপনি যদি স্পামিং না করেন খুব সহজেই যথেষ্ট ক্লায়েন্ট নিয়ে আসতে পারেন এই প্লাটফর্ম গুলো থেকে। যেমন একজন quora.com জানতে চাইলো ওয়েব cms গুলোর মধ্যে কোনটি ভালো। ধরা যাক আপনি ওয়ার্ডপ্রেস খুব ভালো জানেন। আপনি তাকে কমেন্ট এ সাজেস্ট করলেন ওয়ার্ডপ্রেস, পাশাপাশি কেন ওয়ার্ডপ্রেস ভালো এটা নিয়ে মোটামুটি ভালো কিছু পয়েন্ট দিলেন। কিন্তু শুরুতেই আপনাকে নিজের প্রমোশন করা চলবে না। এভাবে দেখবেন আপনার ওই কমেন্ট এর অনেক গুলো রেপ্লায় আসছে, কেও আপনাকে সমর্থন করছে, কেও করছেন না। আপনি ভদ্রভাবে তাদের সাথে আলোচনা করুন। কেন আপনি সঠিক ইত্যাদি। এভাবে মানুষ দেখবে আপনি আপনার niche এ বেস্ট। তখন আপনার কাছে ক্লায়েন্ট আসা শুরু করবে। আমি জাস্ট একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র। ইনশাল্লাহ reddit ও quora.com নিয়ে সামনে ডিটেল এ আলোচনা করবো।

এভাবে আস্তে আস্তে আপনাকে মানুষ চিনতে থাকবে আর নিজের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হবে । অবশ্যই প্রয়োজনীয় কনটেন্ট পোস্ট করুন যেটা সবার উপকারে আসবে ।

৮. নিজের একটা পার্সোনাল/ ব্লগ ওয়েবসাইট থাকা এবং নিয়মিত পোস্ট করা

————————————————–

যদি সম্ভব হয়, নিজের একটা পার্সোনাল পোর্টফোলিও বা ব্লগ ওয়েবসাইট করে ফেলুন, যেখানে আপনি সবসময় নিজের পোস্ট শেয়ার করতে পারেন । যেমন: আমার একটি ব্লগ ওয়েবসাইট আছে যেখানে আমি লিখা লিখি করি। https://whatminhazulasifwrite.com/

https://minhazulasif.me/

আপনার ফেইসবুক, লিঙ্কেডিন ও ইনস্টাগ্রাম এ করা ব্লগ / পোস্ট গুলোই ওয়েবসাইট এ সাজিয়ে রাখুন। যদি seo জানা থাকে এবং গুগল এ কয়েকটি ব্লগ rank করতে পারেন তাহলে তো কোথায় নেই। প্রচুর ভিসিটর আসবে যারা আপনার স্কিল ও স্পেশালিটি সম্পর্কে জানবে। ব্লগ ওয়েবসাইট এ একটি লিংক রাখুন যেখান থেকে তারা আপনার প্রোডাক্ট/ সার্ভিস সম্পর্কে জানবে। একটি কন্সালটেন্সি অপসন রাখুন যাতে ফ্রি তে আপনি ক্লায়েন্ট দের এডভাইস দিতে পারেন। কন্সালটেন্সি ঠিক ভাবে করলে ৮০% লিড কে ক্লায়েন্ট এ কনভার্ট করা যায়।

যদি সম্ভব না হয় তাহলে ফ্রি তে গুগল এর (https://blogger.com) এ নিজের একটা ব্লগ ওয়েবসাইট খুলে ফেলুন। এবং আপনার টপিক এর উপর নিয়মিত পোস্ট করুন, এতে গুগল এ আপনার ব্র্যান্ড এর ভ্যালু তৈরি হবে এবং কোনো প্রকার SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন) ছাড়াই আপনার কনটেন্ট গুলো গুগল এ দেখা যাবে । এই বিষয় টি কিছুটা টেকনিকাল হলেও আপনারা চেষ্টা করলেই পারবেন।

৯. লিঙ্কেডিন হলো জব ফাইন্ডিং ও নিজের ব্র্যান্ডিং এর জন্য একটা সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্লাটফর্ম :

———————————

আমরা অনেকে লিঙ্কেডিন প্রোফাইল সঠিক ভাবে সাজাতে পারি না।

লিঙ্কেডিন প্রোফাইল সাজানো, লিঙ্কেডিন স্কিল এনডোর্সমেন্ট, রেকমেন্ডেশন, ওপেন টু ওয়ার্ক, সার্টিফিকেশন, ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স খুব সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে। লিঙ্কেডিন এর পোস্ট করার পাশাপাশি আর্টিকেল লিখার চমৎকার অপসন রয়েছে। লিঙ্কেডিন এ প্রচুর প্রজেক্ট বেসিস ও লং টাইম জব এর পোস্ট আসে। তবে জানতে হবে কিভাবে লিঙ্কেডিন এ আপনি আপনার টার্গেট ক্লায়েন্ট খুঁজে পাবেন, কিভাবে তাকে কানেক্ট করবেন। লিঙ্কেডিন অটোমেশন এর জন্য অনেক গুলো টুল ও রয়েছে।

এছাড়াও লিঙ্কেডিন জবস ফ্রি তে চমৎকার একটা জব হান্টিং অপসন। আমি লিঙ্কেডিন এর উপর বিস্তারিত একটি পোস্ট দিবো ইনশাল্লাহ।

নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করার কিছু অন্তরায় :

————————————————–

● নিজের প্রকৃত নাম ব্যবহার না করা, fake প্রোফাইল ব্যবহার করা ।

● নিজের সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া, মিথ্যা বলা ।

● বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক পোস্ট করা ।

● কটূক্তিমূলক পোস্ট করা বা কাউকে রোস্ট করা ।

● অশ্লীল এবং নোংরা পোস্ট দেওয়া ।

● সারা দিন অসংখ্য সেলফি ও আজেবাজে পোস্ট দিয়ে সবাই কে বিরক্ত করা ।

● ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট পোস্ট করা/ কাউকে ছোট করা ।

● অযথা Meme শেয়ার করে সময় নষ্ট করা ।

● একই পোস্ট বার বার করে মানুষের বিরক্তি সৃষ্টি করা ।

Enjoy Our Delicious Meal

beautiful

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *